সম্পুর্ন অন্য একটি দিন

ছোটবেলায় আমরা সকলেই নিজেদের খাতার পাতা ছিঁড়ে কিছু না কিছু কাগজের প্লেন বানিয়ে উড়িয়েছি। আর এই কাগজের প্লেন নিয়েই আস্ত একটা জাতীয় দিবস পালিত হয়, তারই সুলুকসন্ধানে সাংবাদিক কিশলয় মুখোপাধ্যায়

ক্লাস থ্রির নীলাদ্রি পেপা পিগ কার্টুন দেখছে। ‘পেপার এরোপ্লেন’এপিসোডটি চলছিল। তারপর কি মনে হল একটি কাগজ দিয়ে প্লেন বানিয়ে প্লেনটাকে ওড়াচ্ছিল। কিন্তু ভালো উড়ছেনা। সেটা দেখে নীলাদ্রির বাবা হিমাদ্রি বললেন আরে ঠিক করে বানানো হয়েনি। দে বানিয়ে দিই। আমরা ছোটবেলায় কত খেলেছি এই কাগুজে প্লেন। এরপর নীলাদ্রির মা নীলাঞ্জনা বললেন জানিস নিলু এই কাগজ প্লেন নিয়ে একটা ডে আছে। যাকে বলে ন্যাশনাল পেপার এরোপ্লেন ডে।

প্রতিবছর ২৬ মে আমেরিকাতে পালন করা হয়। সাধারনত প্লেনের যে খেলনা পাওয়া যায় তাকে স্মরণ করেই এই দিন পালন করা হয়। এক জায়গায় সবাই জড়ো হয় আর একটি প্রতিযোগিতা হয়। দুটো বিভাগ থাকে। একটি হল ‘দূরত্ব’ আরেটি হচ্ছে ‘বাতাসে সময়’।

২০১২ সালের তথ্য অনুযায়ী ‘দূরত্ব’ বিভাগে জন কলিন্স ও জো আইয়ুব যে প্লেনটা বানিয়েছিল সেটি ৬৯.১৪ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে রেকর্ড করেছে আর ‘বাতাসে সময়’ বিভাগে জাপানের তাকুও টোডা ২৭.৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড করেছে।

নিলাঞ্জনা আরো বললেন জানিস শুধু তোর বাবা নয় আমিও ছোটবেলায় এরকম কাগজের প্লেন উড়িয়েছি। শুধু তাই নয় যখন বৃষ্টি পড়ে জল জমত তখন আমরা কাগজের নৌকা বানিয়ে জলে ভাসাতাম। দারুণ মজা হত। আর কাগজের বন্দুকও বানাতাম।

বিকালে পার্কে নীলাদ্রি আর তার ছোট্ট বন্ধুরা কাগজের প্লেন নিয়ে খেলতে লাগলো। আর ঠিক করেই নিয়েছে, মনসুন আসছে। সে কাগজের নৌকা ভাসাবেই।

%d