Site icon Sambad Pratikhan

প্রতিমার বায়না নেই, আমতার মৃৎশিল্পীদের বেঁচে থাকার লড়াই চলছে

Advertisements

অভিজিৎ হাজরা, হাওড়া: হাওড়া জেলার আমতা ১ ও ২ নং ব্লকের সড়িয়ালা,খোশালপুর, বসন্তপুর,থলিয়া,বিনলা গ্ৰাম গুলির মৃৎশিল্পীদের নাম সুদূর প্রসারী।এর মধ্যে থলিয়া ও বিনলা অঞ্চল বন্যা বিধ্বস্ত অঞ্চল হিসাবে পরিচিত। তবু ও অন্ধকার ছাউনি ভেদ করে বারবার জিতছে হাওড়ার আমতা। তবুও কোথা ও যেন হাওড়ার আমতায় বিষন্নতার সুর বাজছে। এই হাওড়ার আমতায় কোথাও যেন অন্ধকারের মধ্যে আলোর উঁকিঝুঁকি।হাতে গোনা আর কয়েকটা দিন পরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ দূর্গোৎসব। অথচ এই এলাকা গুলির পটুয়াপাড়ায় নেই সাজ সাজ রব। উৎসবের মরসুম এসে গেলেও আসছে না প্রতিমা তৈরীর বরাত। প্রতিবছর জুন- জুলাই মাস থেকেই শুরু হয়ে যায় দুর্গা পূজার প্রস্তুতি।প্রতিমা শিল্পীদের মধ্যে চলত প্রতিমা তৈরীর ব্যস্ততা। এমনটাই ছিল সকলের চেনা ছবি।

গত বছর থেকেই সকলের চেনা ছবি সব কিছুরই ছন্দপতন ঘটেছে।করোনার প্রভাবে জেরবার সকলেই।পুজো নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।গত বছরেও পুজোর আগে করোনার প্রভাবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ডাকা লকডাউন, স্বাস্থ্যবিধি ও অন্যান্য নিয়মের বেড়াজালে সমস্যায় পড়েছিল পুজোউদ্যোক্তারা। বিশেষ করে সমস্যার সম্মুখীন হয় মৃৎশিল্পীরা।এ বছরেও মৃৎশিল্পীদের পরিস্থিতি একই।প্রতিমা বায়না না মেলায় চরম সমস্যায় পড়েছে গ্ৰামীণ হাওড়ার আমতার মৃৎশিল্পীরা। গ্ৰামীণ হাওড়ার আমতা ১ ও ২ নং ব্লকের কয়েকশো পরিবার মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত।

বিগত বৎসর গুলিতে এই সময়ে দুর্গা প্রতিমার গায়ে রঙের প্রলেপ পড়লে ও এবার প্রতিমার গায়ে মাটি লাগানোর কাজ অনেক ক্ষেত্রেই হয় নি।এক ধাক্কায় কমেছে প্রতিমার বায়না,কমে গেছে ও পুজোর বাজেট।থলিয়া গ্ৰামের মৃৎশিল্পী শ্রীমন্ত বলেন,গত বছর যে পরিমাণ লোকসান হয়েছিল,তা এই বছর কাজ করে পুষিয়ে নেব বলে মনে আসা নিয়েছিলাম। এই বছর যে গত বছরের তুলনায় আরও খারাপ পরিস্থিতি হবে তা ভাবতে পারিনি। এই পরিস্থিতিতে সংসার কিভাবে চলবে তা ভেবে উঠতে পারছে না মৃৎশিল্পীরা।বাধ্য হয়েই এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে হবে বলে জানান মৃৎশিল্পী রঘুনাথ। কোথাও ক্লাবে কোন ও খুঁটি পুজোয় নেই ধূম, নেই প্রতিমা শিল্পীদের সেই চেনাছন্দ ও।ভয় এবং আতঙ্কে পুজোর কথা সবাই যেন ভুলেই গেছে।এমনই মনে করছেন মৃৎশিল্পীরা। তবে লড়াই চলছে। লড়াই চলছে বেঁচে থাকার। লড়াই চলছে সমস্ত বাধাকে হার মানিয়ে মুক্ত পৃথিবীর স্বপ্ন গড়ার। লড়াই চলবে এই মাটির শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য।

Exit mobile version